আ. লীগে ভোটারের চেয়ে নেতা বেশি!

0
461

ডেস্ক নিউজ:

জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। কোন্দলে জর্জরিত দল বিএনপির কাছে হেরে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান পড়েছে হুমকিতে। আর এই ভরাডুবির কারণ হিসেবে নানা বিষয় উঠে আসছে। সুত্র: কালের কন্ঠ

নির্বাচনের খুবই কম ভোট পাওয়ায় ফেসবুকে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান আকন্দ তাঁর আইডিতে লিখেছেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদেরও আমরা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে পারিনি।’

জেলা ছাত্রলীগ নেতা আহমেদুর রহমান ডালিম লিখেছেন, ‘নেতারা যদি নৌকায় ভোট দিতেন, তাহলে টি জামান নিকেতা এমপি হতেন।’

মানিক হক লিখেছেন, ‘যেদিকে দুচোখ যায় শুধুই আওয়ামী লীগ। তাহলে ভোটগুলো কোথায় গেল? রাজনীতি যখন ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তখন লাখ লাখ নেতাকর্মী থাকা অবস্থায় হাজার হাজার ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়।’

১৮ বছর আগে ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া সদর উপজেলায় নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের ভোট ছিল ৪৬ হাজার। ২০০৮ সালে এই ভোট বেঁড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৪ হাজারে। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে এই ভোট এসে দাঁড়ায় ৬২ হাজারে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে যা দাঁড়ায় ৫৪ হাজারে। আর সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়ে মাত্র সাড়ে ৩৭ হাজার। আর শেষ উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভোট পান ৩২ হাজার ২৯৭টি।

অর্থাৎ ১৮ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ পর পর তিনবার থাকলেও বগুড়ায় আগের চেয়ে ভোট কমে অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এর কারণ হিসেবে দলের সিনিয়র নেতারা মনে করেন, যারা দল করে তারাই ভোট দেয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ক্ষমতাসীন দলের অনেকে এখন রাজনীতির চেয়ে চাঁদাবাজি আর দখল নিয়ে ব্যস্ত। রাজনীতি নিয়ে বগুড়ায় আওয়ামী লীগের নেতাদের আগ্রহ কম। তাদের প্রয়োজন একটি দলীয় সাইনবোর্ড। একই কারণে দলীয় কার্যালয় বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত কার্যালয় তৈরি করে ব্যস্ত রয়েছে চাঁদাবাজি ও সরকারি জমি দখল নিয়ে। এর বাইরে আছে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য।

আগে বগুড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত মমতাজ উদ্দিন। তাঁর বিপরীতে ছিলেন জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম। এই দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব ছিল অনেক। এখন মমতাজ উদ্দিন বেঁচে নেই। কিন্তু তাঁর অনুসারীরা একটি পক্ষ হয়ে গেছে। মূল দল ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য। সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বলেই নৌকায় ভোট কমছে আশঙ্কাজনকভাবে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান দলীয় কর্মসূচি ছাড়া শহরে আসেন না। তিনি ব্যস্ত শেরপুর শহরে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। দল ক্ষমতায় আসার পর শেরপুরে করতোয়া জুটমিল নামের একটি পাটকল দিয়েছেন তিনি। ছেলের আছে ঠিকাদারি ব্যবসা।

বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র শামছুদ্দিন শেখ হেলালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তিনি। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বগুড়া হয়ে উত্তরবঙ্গ রুটে চলাচলকারী পরিবহন এবং থ্রি হুইলার অটোরিকশায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি হয়। এ ব্যাপারে শামছুদ্দিন শেখ হেলাল বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের জন্য চাঁদা ওঠে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম আছাদুর রহমান জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। এই নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি, দখল ও দলীয় নেতাদের খুনোখুনিসহ নানা অভিযোগ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও ক্ষমতাসীন এই দল যে এখন সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের অবৈধ টাকা উপার্জনের মাধ্যম হয়েছে সেটি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এখন চাঁদাবাজি, বালু উত্তোলন, দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব কাজ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক সাড়া ফেলছে। এ কারণে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’

জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী টি জামান নিকেতা বলেন, ‘প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করেছে। পুলিশের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করেছি। কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারেনি। এটা মেনে নিতে হবে। আগামীতে আমরা আবারও চেষ্টা করব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here