নড়াইলের পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ

0
443
smart


নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের পুলিশ সুপারকে কনস্টবল নিয়োগের জন্য জার্সির মধ্যে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টায় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে নূরুল ইসলামকে হাজির করা হয়। নূরুল ইসলাম নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। নূরুল তার ভাতিজা দিপু হোসেনকে কনস্টবল পদে চাকুরির জন্য পুলিশ সুপারকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে পুলিশ সুপারের কাছে দেখা করতে এসে আটক হন নূরুল ইসলাম (৫৫)।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) বলেন, নূরুল ইসলাম মাঝে-মধ্যে অফিসে এসে আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ খানেক আগে আমাকে অফিসে না পেয়ে নূরুল ইসলাম ফোনে জানান, স্যার আপনি ফুটবল প্রিয় হওয়ায় আপনার জন্য জার্সি নিয়ে এসেছি।
নূরুল ইসলামের এ কথা শুনে নড়াইলের পুলিশ সুপার নূরুলকে বলেন, আপনার জার্সি দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও জার্সি নেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন নূরুল। এক পর্যায়ে এসপি অফিসে জার্সি রেখে যেতে বলেন পুলিশ সুপার। পরে জার্সির ওই প্যাকেটটি পুলিশ সুপারের বাসভবনে পাঠিয়ে দেন অফিসের কর্মচারীরা।
এদিকে, অফিসিয়াল ব্যস্ততার জন্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গত সপ্তাহেও ওই জার্সির প্যাকেটটি খুলে দেখেননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে জার্সির ওই প্যাকেটটি খোলেন পুলিশ সুপারের স্ত্রী। প্যাকেটটি খোলার পর পুলিশ সুপার ও তার স্ত্রী হতবাক হয়ে যান। দেখতে পান-ওই প্যাকেটের মধ্যে হলুদ রঙের জার্সি, একটি ডায়েরি, পুলিশ কনস্টবল নিয়োগের জন্য দিপু হোসেনর বয়োডাটা এবং টেপ দিয়ে মোড়ানো আরেকটি কাগজের প্যাকেটে রয়েছে ৭ লাখ টাকা। জার্সির প্যাকেটে এই অবস্থা দেখে-নূরুল ইসলামকে চিহিৃত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। #
মোঃ আজিজুল ইসলাম, নড়াইল।
২৮.০৬.২০১৯।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here