সাদুল্লাপুরে পরীক্ষার ফি বাকি থাকায় ২৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত

0
248

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি:  সাদুল্লাপুর উপজেলার  ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৫ জন এইচএসসি ১ম বর্ষের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি বাকি থাকায় পরীক্ষা  স্থগিত করেছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা বাকি থাকায় তাদের কে  এইচএসসি প্রথম বর্ষের  ইয়ার চেঞ্জ পরীক্ষায় চারটি বিষয় পরীক্ষা দেওয়ার পর পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে অংশ গ্রহন করতে দেওয়া হয়নি।

এতে দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা জীবনে চরম হতাশা নেমে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, হতদরিদ্র কলেজ  শিক্ষার্থী গৌতম কুমার  রাজমিস্ত্রির সহযোগী শ্রমিক হিসেবে  কাজ করে। অভাবের সংসারে দিনমজুর বাবা চৈতন্য চন্দ্র বর্মনকে সাহায্য করে সে। পরীক্ষার্থী গৌতম কুমার বর্মন বলেন, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পৃথিবীতে জন্মেছি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হয়ে, আবার কখনও অন্যের জমিতে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে পরিবারকে সহযোগিতা করি। ছোট বোনের পড়াশুনার খরচসহ সংসার চালানোই কষ্টকর। তাই  কলেজের পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ দিতে পারি নাই বলে আমাকে ৪ টি বিষয় পরীক্ষা দেওয়ার পর বাকি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে দেয়া হয়নি, আমি প্রতিদিন কলেজে পরীক্ষা দিতে যাই  ১০০ টাকা বাকি থাকার কারনে পরবর্তী  পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে দেয়নি ।

এ কথা বলেই সে কান্না শুরু করে দেয়। এছাড়ও ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের একাধিক পরীক্ষার্থীদের ১০০ টাকা ও ৫০ টাকা বাকি থাকার কারনে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।  তাদের মধ্যে   সুফিয়ান,আমিনুর,জাহিদ,রিদয়,রিয়াদ,সঞ্জয়,রেবেকুল,সুজন,সাথী, কলি,রুজিনা,ছাবিনা, নুরনবী,বিপ্লব,নাছিমা,চামিলি আরো অনেক। পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০ জুন থেকে শুরু এইচএসসি প্রথম বর্ষের  পরীক্ষায় ৪ টি বিষয় পরীক্ষা নেওয়ার পর বাকি টাকার জন্য  পরবর্তী  তিন (৩) বিষয় পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানান,২৫ জন  পরীক্ষার্থীদের  পরীক্ষা দিতে না দিয়ে কর্তৃপক্ষ অন্যায় ও অমানবিক কাজ করেছে। তারা এই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আবারো পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন বিষয়টি এইমাত্র জানতে পারলাম, পরীক্ষার ফি বাকি থাকার কারনে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেবে না এটা হতে পারে না। তিনি আস্বাস্ত করেন কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে  অবশ্যই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।  ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোলায়মান আজিজের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি ঘটনার সম্পর্কে  জানেন না বলে গনমাধ্যম কর্মিকে জানান।পরে শুনেছি শোনার পরেই আমি এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকেছি এবং বলেছি  তোমরা অাসো   বাকি  পরীক্ষা গুলো দেও, তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here