বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই তিস্তা

0
484

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। বিপদসীমার মাত্র দশমিক দুই সেন্টেমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) চেয়ে মাত্র দশমিক দুই সেন্টিমিটার কম।

হঠাৎ পানি বাড়ায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে শতাধিক পরিবারের প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানি নিয়ন্ত্রণ করতে ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, পাটিকাপাড়া, সির্ন্দুনা, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর, সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং কালীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পাশাপাশি ছোট নদ-নদীতেও পানি বাড়তে শুরু করেছে। কিছু কিছু স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালুর বস্তা দিয়ে চেষ্টা চলছে ভাঙন ঠেকানোর। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নিচ্ছেন।

এদিকে, বন্যার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তিস্তা ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, সকাল থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার পানি বিপদসীমার মাত্র দশমিক দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে সতর্ক রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here