একবসাতেই দুই কেজি কাঁচামরিচ সাবাড়!

0
51

রাজশাহীর চারঘাটের শলুয়া ইউপির হলিদাগাছী গ্রামের ‘মরিচ খাওয়া মোবারক’। সুস্বাধু ফল খাওয়ার মতো করে একটার পর একটা কাঁচামরিচ খান তিনি। একটি বা দুটিও নয়, পেট না ভরা পর্যন্ত মরিচ খেতে পারেন মোবারক মোল্লা। মোবারকের কথায়, তার কাছে মরিচের স্বাদ চকলেটের মতো। তাই কারও বাড়ি বেড়াতে গেলেও মোবারক নাশতার বদলে কাঁচামরিচই চেয়ে খান।

আগে এলাকার লোকজন মোবারক মোল্লার সঙ্গে মরিচ খাওয়া নিয়ে বাজি ধরতেন। কিন্ত এখন আর কেউ সেই সাহস পান না। কারণ বাজি ধরলেই নিশ্চিত পরাজয়। মরিচ খাওয়াটা যে তার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়! 

চারঘাটের হলিদাগাছী পশ্চিমপাড়ায় মোবারকের বাড়ি। তার বয়স এখন প্রায় ৭০ বছর। তিন মেয়ে আর এক ছেলের বাবা তিনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকেও বিয়ে করিয়েছেন। এখন তাদের সঙ্গেই থাকেন মোবারক মোল্লা। এক যুগ হলো মোবারক মোল্লা কোনো কাজ করেন না। 

তিনি জানান, সেই ছেলেবেলায় যে মরিচ খাওয়ার নেশাটা জন্মেছিল তা এখনো আছে। শুধু মরিচ খাওয়ার এই ক্ষমতার কারণে এলাকার সব মানুষই তাকে চেনেন।

সম্প্রতি মরিচ খাওয়া মোবারক মোল্লার বাড়িতে গিয়ে কথার ফাঁকে মরিচ খাওয়ার আয়োজন করা হলো। এসময় মোবারক মোল্লার বাড়ির উঠানে প্রতিবেশীদের ভিড় জমে গেল। এক থালা কাঁচামরিচ বের করে দিলেন ছেলের বউ নাসিমা বেগম। একটার পর একটা মরিচ খাওয়া শুরু করলেন মোবারক। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই কমপক্ষে এক কেজি মরিচ সাবাড় করলেন তিনি।

এবার বাধা দিলেন স্ত্রী জাহানারা বেগম। বললেন, বয়স হয়েছে। থাক আর খেতে হবে না। পেটের সমস্যা হতে পারে। মোবারক থামলেন। তারপর একটা হাসি দিলেন।

এ হাসিতে প্রমাণ করলেন নিজের মরিচ খাওয়ার সক্ষমতার কথা। মোবারক মোল্লা কাঁচামরিচকে বলে থাকেন ‘গাছ মরিচ’। 

মরিচ খেয়ে কোনো সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে মোবারক বলেন, আমি অসুস্থ হই না, মরিচ খেলেই আমার সব অসুখ ভালো হয়ে যায়।

মোবারক আরো বলেন, আমি এখন পর্যন্ত একবসাতে সর্বোচ্চ দুই কেজি মরিচ খেয়েছি। এর বেশিও পারবো। কিন্তু কেউই সাহস করে দেয় না। প্রথম প্রথম খেতে দিত সবাই। এখন সবাই জানে, তাই আর কেউ খেতে দেয় না। বাজারের সবজি বিক্রেতারা আগে বলত, যত পারেন খান। এখন দেয় না।

তিনি বলেন, একবার গাছ মরিচের দাম ২০০ টাকা কেজি হলো। তখন বাড়িতে কেউ খেতে দেয় না। আবার কোনো বাড়িতে গিয়ে চাইলেও দেয় না। আমার তো মরিচ না খেলে ভালো লাগে না। তাই একদিন এক দোকানে গিয়ে বললাম, আপনার দোকানের মরিচ দেখেই মনে হচ্ছে ঝাল না। দোকানদার বললেন, ঝাল না তো একটা খেয়ে দেখেন। তখন আমি একের পর এক খেতে লাগলাম। একটু পর দোকানদার আর খেতে দিলেন না।

মোবারক মোল্লার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, আমার বিয়ের আগে থেকেই শুনেছি উনি মরিচ খেতে পারেন। তখন বিশ্বাস করতাম না। বিয়ের পর দেখলাম সত্যিই তাই। সবসময়ই মরিচ খায়।

নাসিমা বেগম বলেন, আমার বাপের বাড়ি নাটোরের সিংড়া। আমার শ্বশুর সেখানে গেলে নাস্তা দেয়া হয়। কিন্তু তিনি বলেন, মরিচ থাকলে দেন। তিনি মরিচই খান। এখন এই এলাকার সবাই আমাকে ‘মরিচ খাওয়ার বেটার বউ’ বলে চেনে।

মোবারক মোল্লাকে মরিচ কেন ঝাল লাগে না, জানতে চাইলে পুষ্টিবিদ আনসিয়া পারভিন সুরভি বলেন, কাঁচামরিচে ক্যাপসাসিন নামে একটি পদার্থের উপস্থিতির জন্য ঝাল লাগে। মানুষের জিহ্বার প্রতি মিলিমিটারে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার স্বাদগ্রন্থি থাকে। এই স্বাদগ্রন্থির মাধ্যমে ক্যাপসাসিন ভেতরে ঢুকে ঝাল লাগে। কিন্তু জিহ্বায় স্বাদগ্রন্থি কম থাকলে ঝাল কম লাগবে। যেমন পাখিদের জিহ্বার প্রতি মিলিমিটারে মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ স্বাদগ্রন্থি থাকে। তাই তাদের ঝাল লাগে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here