এনআইডি সার্ভারে সংযুক্ত আরও ৭৩ রোহিঙ্গা

0
46

পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত সর্দার নুর আলম ছাড়াও আরো অন্তত ৭৩ জন রোহিঙ্গা স্মার্ট কার্ডের জন্য বাংলাদেশি এনআইডি সার্ভারে সংযুক্ত হয়েছেন। স্মার্ট কার্ড পাওয়া নুর আলমসহ আবেদন জানানো অধিকাংশ রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ভুঁয়া ঠিকানা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। এই অবস্থায় এ জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুসন্ধানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন।

গত রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের জাদিমুরা পাহাড়ি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর আলম। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর আলম এর স্মার্ট কার্ড। এরপর স্মার্ট কার্ডের দেয়া ঠিকানা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন হিলভিউ রোডের মাস্টারের মায়ের বাড়ি বার্মা কলোনির ঠিকানা ব্যবহার করে স্মার্ট কার্ড পেয়েছিল রোহিঙ্গা নুর আলম। কিন্তু ওই ঠিকানায় বসবাসরত ফাতেমা বেগমসহ আশপাশের কেউ নুর আলমকে চেনেন না কিংবা ওই এলাকায় কোন দিন দেখেনওনি।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘কোনো সময় এই লোকটাকে দেখিনি। কে আমার ঠিকানা ব্যবহার করেছে এটা তো আমি জানি না।’

একই ঠিকানার আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে এই বাড়িতে বসবাস করছি। লোকটাকে চিনিও না, দেখিনিও কোনদিন।’

গত ১৯ আগস্ট নির্বাচন কমিশন থেকে স্মার্ট কার্ড নিতে গিয়ে আটক হন লাকী নামের এক রোহিঙ্গা নারী। পরবর্তীতে তার স্বামী নজির আহমেদকেউও আটক করা হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন নজির আহমেদ। এই দু’জনকে আটকের পর রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে সংযুক্ত হওয়ার ঘটনায় অনুসন্ধানে নামে নির্বাচন কমিশনের একটি তদন্ত টিম।

গত রোববার রাতে ঢাকা এনআইডি উইংস এর কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে এই ধরণের ৭৩ জন রোহিঙ্গা চিহ্নিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। মূলত তারা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের ঠিকানা ব্যবহার করে এনআইডি সার্ভারে অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসাইন খান জানান, রোহিঙ্গাদের এনআইডি/স্মার্ট কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় নিজস্ব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই টিমটি বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে। এছাড়াও এনআইডি উইংসকে জানানো হয়েছে; তাদের পক্ষ থেকেও টেকনিক্যাল এক বিশেষজ্ঞসহ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

এই অবস্থায় এসব রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে সংযুক্ত করার ব‌্যাপারে সহযোগিতাকারীদের অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ প্রশাসনও।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ জানান, রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। কার কতটুকু সহযোগিতা আছে না আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যারা সহযোগীতা করেছে এবং দোষী হিসেবে চিহ্নিত হবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রোহিঙ্গাদের এভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এনআইডি সার্ভারে অর্ন্তভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্মার্ট কার্ড পাওয়াকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ বলেন, ‘এনআইডি সার্ভারে অর্ন্তভুক্তি ও স্মার্ট কার্ড পেয়ে গেলে রোহিঙ্গারা তো অবাধে এটা ব্যবহার করতে পারছে এবং সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গারা তো এটা ব্যবহার করে যেকোনো অপরাধমূলক কাজ করতে পারে। এটা দেশের জন্য চরম ঝুঁকি।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সূত্র : রাইজিংবিডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here