সাধারণ জ্বরকে ডেঙ্গু হিসেবে শনাক্ত

0
131

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মওলা বক্স (৬২) নামে এক ব্যক্তির সাধারণ জ্বরকে ডেঙ্গু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে কুষ্টিয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করা হলে তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হননি বলে ডায়গনোসিস রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে।জানা গেছে, উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামের মৃত শিলাই মন্ডলের ছেলে মওলা বক্স গায়ে জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য গত ১২ সেপ্টেম্বও দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

প্রথমে তিনি বহির্বিভাগের টিকেট নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১০ নম্বর কক্ষে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রেজিস্ট্রারভুক্ত করেন।ভুক্তভোগী মওলা বক্স সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসক তার জ্বর দেখে পরীক্ষার জন্য তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে পাঠান। সেখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সাইফুল ইসলাম পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গ জ্বর হয়েছে বলে ‘নিশ্চিত’ করেন।

ওই সময় চিকিৎসক তাকে ১৫ দিনের ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।মওলা বক্সের ছেলে রাজু আহমেদ জানান, তার বাবা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন জেনে পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই তাকে কুষ্টিয়া শহরের সনো প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গুর কোনো আলামতই পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।

মওলা বক্সের স্ত্রী বলেন, আমি এমনিতেই অসুস্থ। এ অবস্থায় স্বামীর ডেঙ্গু হয়েছে শুনে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে তাকে কুষ্টিয়ার সনো টাওয়ারে (বেসরকারি অভিজাত হাসপাতাল) পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হননি জেনে আশ্বস্ত হই।সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তরফে যখন সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, তখন খোদ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ ধরনের ভুল রিপোর্ট কীভাবে দেয়া হলো এমন প্রশ্নই তুলেছেন এলাকার লোকজন। এমন ভুল রিপোর্টে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। আর যেন কোনো মানুষকে ভুল রিপোর্টের শিকার হয়ে ভুল চিকিৎসা নিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে জানার জন্য চেষ্টা করেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সাইফুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বরত সহকারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মাহবুবুর রহমান প্রথমে গড়িমশি করলেও পরে ১২ সেপ্টেম্বরের রেজিস্ট্রার চেক করে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ওই রেজিস্ট্রারভুক্তির নম্বর ৪৪৩২৪/৬৪।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আরফিন সুলতানা নিপা বলেন, ঘটনাটি আমি এখনই শুনলাম, টেকনোলজিস্ট সাইফুল আজ ডিউটিতে নেই, তিনি আসলে বিষয়টি নিয়ে আমরা বসবো।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দু পাল মোবাইল ফোনে জানান, রোগীর ব্লাড সার্কুলেশনে সমস্যার কারণে ল্যাবের পরীক্ষায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে টেকনোলজিস্টের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here