সিলেটে শারদীয় দূর্গাপূজা মহোৎসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ৬০৮টি মন্ডপ

0
106

সোহেল আহমদ, সিলেট থেকে
আগামী ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাম্বলীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন শারদীয় দুর্গা পুজা। পূজা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা শিল্পীদের। সিলেট জেলার ৬০৮ টি পূজা মন্ডপে দুর্গা আর তাঁর সঙ্গীদের প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমাগুলোতে এখন চলছে রংতুলির আঁচড়। রংতুলির আঁচড়েই ফুটে উঠছে প্রতিমাগুলোর রূপ আর সৌন্দর্য্য। পূজা আয়োজনকারী কমিটিগুলোও পারিবারিক উদ্যোক্তারা এখন সর্বশেষ সুন্দর আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে চলেছেন। পাশাপাশী দুর্গাপূজায় ব্যাপক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এ বছর সিলেট মহানগরে ৬৬টি ও জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৪২টি, সর্বমোট ৬০৮টি পূজামন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সার্বজনীন ৫৫৬টি ও পারিবারিক উদ্যোগে ৫২টি মন্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সার্বজনীন আয়োজনে ৫১টি ও পারিবারিক আয়োজনে ১৫টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট সদর উপজেলায় সার্বজনীন ৫৮টি, পারিবারিক ২টি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ২৪ টি ও পারিবারিক ১টি। বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন ২১টি, পারিবারিক ৫টি। গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৫৯ টি ও পারিবারিক ৩টি। বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৮ টি ও পারিবারিক ২টি। কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৫টি। জৈন্তাপুর উপজেলায় সার্বজনীন ২২টি। গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৭টি, পারিবারিক ১টি। জকিগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৯৩টি। বিয়ানীবাজার উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৪০টি, পারিবারিক ১৪টি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৬টি ও পারিবারিক ১টি। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩৭টি। ওসমানীনগর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ২৫টি ও পারিবারিক ৭টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর প্রায় সবগুলো মন্ডপেই প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরি শিল্পীদের যেন এতটুকু নি:শ্বাস ফেলার সময় নেই। দিনরাত মাটি, খড়, রংসহ সবরকম উপকরণ নিয়ে তারা ব্যস্ত। কেউ খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ মাটি লাগাচ্ছেন। কোন কোন মন্ডপে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন বাকী শুধু রংতুলির ছোঁয়া আর কাপড় পড়ানোর কাজ। পাশাপাশি ভক্তরা পূজোর প্রস্তুতি নিয়ে এখন অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। তার পাশাপাশি নগরীর মন্ডপগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানোর ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়। প্রতি বছর এই পূজাতে নগরীতে নতুন নতুন সাজ দেখা চোখে পড়ে। সম্প্রতির নগরী সিলেটে হিন্দু হিন্দুধর্মালম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।
এবার ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমী, ৪অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী, ৫অক্টোবর শনিবার মহাসপ্তমী, ৬অক্টোবর রোববার মহাঅষ্টমী, ৭অক্টোবর সোমবার মহানবমী, ৮অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে। বিজয়া দশমীর দিন নগরীর চাদনীঘাটে দেবী বিসর্জন অনুষ্ঠান ব্যাপক ও উৎসবমুখর ভাবে পালন করা হয়। এদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দেবী বিসর্জনে হাজার হাজার লোক সমাগম হয়ে থাকে চাঁদনীঘাট এলাকায়।
এদিকে, সিলেট জেলা ও মহানগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সার্বিক নিরাপত্তা দিতে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশের উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সকল থানা থেকে আগত পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সকলের মতামত গ্রহণ করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে নিজ নিজ ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া সিলেট জেলাধীন সকল সার্কেল ও থানার ওসিদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। পুলিশ সুপার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে জরুরি মুহূর্তে জেনারেটর রাখা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন, নারী-পুরুষ আলাদা লাইনে প্রবেশ ও বাহিরের ব্যবস্থা করা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখা, সম্ভব হলে সিসিটিভি স্থাপন করা, প্রতিটি মন্ডপে আগুন নিয়ন্ত্রক সিলিন্ডার রাখাসহ বিভিন্ন দিক নিদের্শনা প্রদান করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, যেকোনো ধরণের দুর্ঘটনা বা অঘটনের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে সিলেট জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অপরদিকে, এবারের পূজা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে পালিত হবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন জেলাও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।
সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপিত হবে। পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে প্রশাসন। পূজামন্ডপকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। তাই এবার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। সার্বিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ বেশ ভাল। প্রতি বছরের তুলনায় এবছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যে পুলিশ সুপার পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দ নিয়ে বৈঠক করেছেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠক রয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সাথে বৈঠক হবে। এবারের পূজা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি সকলের সহযোগিতার আহবান জানান।

সিলেটে শারদীয় দূর্গাপূজা মহোৎসবের  জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ৬০৮টি মন্ডপ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here