কলাউজানের কুটির শিল্পীরা পাটি বুনে সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ করছেন

0
47

নিজস্ব সংবাদদাতা, লোহাগাড়া ঃ
উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পাটি বুনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। বিক্রয়লব্ধ টাকায় সন্তানদের লেখাপড়ার খরচসহ যাবতীয় ব্যয়ভার নির্বাহ হচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ির বয়স্ক মহিলারা পারিবারিক কাজের ফাঁকে-ফাঁকে পাটি বুনন কাজে সময় ব্যয় করছেন। বিশেষ করে উপজেলার চুনতি, কলাউজান, চরম্বা, পুটিবিলা প্রভৃতি ইউনিয়নের কোন কোন এলাকায় পাটি বুনন কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পাটি এক প্রকার কুটির শিল্প। সম্প্রতি পাটি তৈরির সহিত সংশ্লিষ্টদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এলাকা পরিদর্শনকালে পূর্ব কলাউজান আদারচর সংলগ্ন হিন্দু পাড়ায় পাটি তৈরি কাজে ব্যস্ত কয়েকটি পরিবারের লোকজনের সহিত সাক্ষাৎ হয়। আলাপকালে তাঁরা জানান, বহু আর্থিক দুঃখ-দৈন্যতায় জর্জরিত সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ বর্তমানে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝে তাঁরা আজো আদি পেশার সহিত জড়িত রয়েছে। এতে যা উপার্জন হয় তা’দিয়ে সংসারের ব্যয়ভার কোন মতে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পাটি তৈরি পেশায় জড়িত জনৈকা কুসুম রাণী নাথ জানান, প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবৎ তাঁর পরিবার এ’পেশার সহিত জড়িত। পাটি বিক্রিতে যা’উপার্জন হয় তা’দিয়ে তাঁর সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ হয়। সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে পাটি বুননেন কাজ চলে। একটি পাটি তৈরি করতে কতদিন সময় লাগে উপকরণ সমূহ কিভাবে সংগ্রহ করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠেকসই সুন্দর ও নকশাযুক্ত একটি বড় পাটি তৈরি করতে তাঁর কমপক্ষে ৭/৮ দিন সময় লাগে। পাটি তৈরির মূল উপকরণ হ’ল এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। যাকে প্রচলিত ভাষায় পাটির জাং বলা হয়। বর্তমানে মৎস্য চাষের কারণে তা’ও বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন এলাকার জলাশয় বা পুকুর থেকে ক্রয় করে বাড়িতে এনে চিকন আঁশ করে তুলতে হয়। এরপর রোদে শুকিয়ে বুনন কাজে ব্যবহার করা হয় ওইসব ছিকন আঁশ। একটি পাটি তৈরির আয়-ব্যয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাবে তিনি জানান, বড় ধরণের ভাল পাটি তৈরি করতে আানুমানিক ৪-৫ শত টাকা ব্যয় হয় এবং তা’বিক্রি করে ৮-৯শত টাকা আয় হবে। বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রাম পর্যায়ে যাঁরা বিভিন্ন কুটির শিল্প সামগ্রী তৈরি কাজ জড়িত তাঁদেরকে যথাযথ পৃষ্টপোষকতা দেয়া সরকারের উচিৎ বলে সুশীল সমাজের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।
উপজেলার প্রায় পরিবারে পাটির ব্যবহার রয়েছে। ধনী, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র প্রভৃতি শ্রেণীর পরিবারে উত্তম, মধ্যম ও নিুমানের পাটি ব্যবহৃত হয়। বাড়িতে মেহমান আসলে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের পাটিতে বসার ব্যবস্থা করেন। আবার গরম মৌসুমে সকল শ্রেণীর লোকেরা পাটিতে ঘুমাতে চান সামান্যটুকু ঠান্ডা অনুভব করার জন্য। এ’জন্য পাটির চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে প্রায় পরিবারে। গ্রাম এলাকায় এখনো যাঁরা এ’শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন তাঁদের জন্য সহজ উপায়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা সরকারের উচিৎ। ফলে, পাটি তৈরি পেশায় যাঁরা জড়িত তাঁরা আরো বেশী উৎসাহিত হবেন। একই বিশ্বের আধুনিকায়ন যুগে নকশা করা নিত্য-নতুন ডিজাইনে পাটি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণও সংগ্রহ করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here