শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত লোহাগাড়ায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা

0
55

অমিত কর্মকার, লোহাগাড়া প্রতিনিধি ঃ
ঋতু রাণী শরতের ছোঁয়ায় প্রকৃতি উতলা। নানা আয়োজনে সাজবে প্রকৃতি। শরৎ শান্ত হেমন্তের আগমনে শীতের আগমন। নব যৌবনের দৃপ্ত মহিমায় প্রাকৃতিক জগৎ আনন্দে আন্দোলিত। তারই মাঝে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনায় জেগেছেন কৃষক সমাজ। আমন ধান চাষের পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষকেরা আগাম শাক-সবজি উৎপাদনে জায়গা আবাদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জেগে ওঠা খালের চরে তাঁরা শাক-সবজি ও তরি-তরকারি উৎপাদনে খুবই আগ্রহী। যেহেতু, আগে-ভাগে উৎপাদন করতে পারলে তাঁরা আগাম চড়া দামে বিক্রি করতে পারবেন। তাই তাঁরা চরে কৃষিপণ্য উৎপাদনে এ’মৌসুমে মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করার সময় এহেন দৃশ্য উক্ত প্রতিবেদকের দৃষ্টিগোচর হয়। বিশেষ করে উপজেলার টংকাবতী, ডলু, হাতিয়া, থমথমিয়া, সুখছড়ি, হাঙ্গর, জাংছড়ি, সরই, চাম্বী, সোনাইছড়ি, কুল পাগলী প্রভৃতি খালের চরাঞ্চল ও খাল সংযুক্ত জায়গায় শাক-সবজি উৎপাদনে কাজ করছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে টংকাবতী খালের চরে কলাউজান ও আমিরাবাদ, হাঙ্গর খালের চরে জঙ্গল পদুয়া, ফরিয়াদিকূল, নাওঘাটা, জাংছড়ি খালের চরে চরম্বা, ডলু খালের চরে আধুনগর ও চুনতি, কূল পাগলী খালের চরে আধুনগর, হাতিয়ার খালের চরে আধুনগর ও চুনতি, সুখছড়ি খালের চরে দক্ষিণ লোহাগাড়া, সরই খালের চরে পুটিবিলা ও সরই, চাম্বী খালের চরে নারিশ্চা ও পানত্রিশা, সোনাইছড়ি খালের চরে দক্ষিণ চুনতি, থমথমিয়া খালের চরে বড়হাতিয়া প্রভৃতি এলাকার কৃষকেরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শীতকালীন শাক-সবজি ও তরি-তরকারী উৎপাদনে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। তন্মধ্যে কৃষকেরা লাল শাক, মূলা শাক, পালং শাক, লাউ শাক প্রভৃতি হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। চাহিদা ও সরবরাহ সন্তোষজনক। তবে, দাম সামান্য বাড়তি। শাক-সবজি উৎপাদনের অন্যতম চারণভূমি কলাউজান আদারচরের বড়–য়া পাড়ার জনৈক পুলিন বড়–য়া জানান, এলাকার সিংহভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বর্ষায় তাঁরা দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। যে কারণে বর্ষার অবসানে তাঁরা জেগে উঠা আদারচরে আগাম শীতকালীন শাক-সবজির চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে তাঁরা বিস্তীর্ণ জায়গায় লাল শাকের চাষ করেছেন। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে তাঁরা এ’লাল শাক হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি ১৫/২০ টাকা দরে বিক্রি করেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here