চিতলমারীতে টমেটো ক্ষেতে মড়ক, ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা

0
210

মিলছেনা কোন কার্যকরী রোগ প্রতিরোধক


চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারীতে টমেটো গাছ মরে ছাপ হয়ে যাচ্ছে। গাছে ফুল আছে, ফল আছে। হঠাৎ করে তরতাজা গাছের আগা ঢলে যাচ্ছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গাছটি পুরোপুরি শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কোন ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ক্ষেতের গাছ এভাবে মারা যায়। রোগাক্রান্ত টমেটো গাছ তুললে দেখা যায় শিকড় পচে গেছে। কোন প্রকার সার কীটনাশক ব্যবহার করে এ রোগ থেকে প্রতিকার পাচ্ছে না এখানকার ভুক্তভোগী চাষীরা।

চিতলমারীতে টমেটো ক্ষেতে মড়ক, ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা


উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের টমেটো চাষী পাপ্পা বালা জানান, “এবছর সে আট একর জমিতে ছয় হাজার টমেটো গাছ লাগিয়েছি। শুরুতে গাছগুলো খুব ভালো ছিল। নিয়মিত সার, কীটনাশক, পানি এবং বিভিন্ন প্রকার অনুখাদ্য ব্যবহার করেছি। গাছে যথারীতি ফুল ফল ধরেছে। হঠাৎ করে দেখি কিছু গাছের আগা ঢলে গেছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আমার প্রায় চার হাজার গাছ মরে গেছে। ইতিমধ্যে আমার ৫০/৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে গাছগুলো বেঁচে আছে তার থেকে আমার চালান উঠবে না।”
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গরীবপুর মাঠে প্রায় ১০ থেকে ১২ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এখানে অধিকাংশ টমেটো ক্ষেতের গাছ অজানা রোগে মারা যাচ্ছে। শত শত কৃষক ধার দেনা করে শীতকালীন এ সবজি চাষ করেছেন। কিন্তু ব্যপকহারে গাছ মরতে শুরু করায় কৃষকরা মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দিশেহারা হয়ে কৃষকরা কীটনাশকের দোকানে ভীড় জামাচ্ছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। মাঠে গিয়ে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানীর লোক তার কোম্পানীর ওষুধ ব্যবহার করে রোগ নিরাময়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু সে ওষুধ প্রয়োগ করেও সুফল পাচ্ছে না কৃষক। দিন দিন এ রোগ মরক আকার ধারন করছে।
টমেটো চাষী শুভজিত পোদ্দার, মিন্টু মিয়া, সঞ্জু ঘরামী, অপূর্ব বিশ^াসসহ কয়েকজন কৃষক দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তাদের ক্ষেতের প্রায় সব গাছ মারা গিয়েছে। যে গাছ এখনো বেঁচে আছে তাও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছ। যদি বেঁচ থাকেও, তাতে খরচ বাঁচবে না। ক্ষোভের সংগে তারা আরো জানায়, কৃষি অফিস থেকে এ ব্যাপারে কেউ কোন খোজ নেননি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতনি ইউনিয়নের মধ্যে চরবানিয়ারী, সন্তোষপুর, হিজলা ও চিতলমারী সদর ইউনিয়নে টমেটোর চাষ হয়েছে। তার মধ্যে চরবানিয়ারী এবং সন্তোষপুরে টমেটোর চাষ বেশি। এ বছর প্রায় সাত হাজার চাষী ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করেছেন।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার বলেন, “গাছ মরে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মাঠে কৃষকদের সাথে কাজ করেছি। আমরা ভালো ফল না পেয়ে খুলনা বিভাগীয় উর্ধতন কৃষি বিজ্ঞানী মোঃ মোশারফ হোসেন স্যারকে নিয়ে আসি। তিনি মাটি ও গাছ পরীক্ষা করেন। কৃমি ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। স্যার একই জমিতে একই ফসল বার বার না লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here