সৎ ভাইকে ইংরেজি পড়াতে গিয়ে স্কুলছাত্রী দুইবার অন্তঃসত্ত্বা!

0
40

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সৎ ভাইয়ের যৌন লালসার শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। এ ঘটনায় মুখ খুললে লম্পট ওই সৎ ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে বলে জানায় ওই ছাত্রী। উপজেলার রাজামেহার ইউপির এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে পুরো এলাকায়। 

লম্পট ওই সৎ ভাইয়ের নাম মেহেদি হাসান। সে রাজামেহার ইউপির গোবিন্দপুর গ্রামের শাহ আলম সরকারের ছোট ছেলে।      
১২ বছর আগে শাহ আলম সরকারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মারা যান। পরে শাহ আলম সরকার ভানী ইউপির স্বর্ণকার পাড়ার সিরাজুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী নাসিমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় নাসিমার  ১১মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান ছিল। পরে ওই মেয়ে সন্তানসহ নাসিমা বেগমকে ঘরে তুলেন শাহ আলম সরকার। সে থেকে ১১ মাস বয়সী ওই মেয়ে সন্তানকে লালন পালন শুরু করেন শাহ আলম সরকার। বর্তমানে ওই মেয়ে সন্তান রাজামেহার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। শাহ আলম সরকারের আগের সংসারের পাঁচ মেয়ে বিবাহিতা হওয়ায় মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। আর বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন থাকেন তাবলীগ জামায়াতে। বাড়িতে একা থাকতো মেহেদি হাসান। বর্তমানে মেহেদী হাসান রাজামেহার কলেজে এইচএসসির ছাত্র। মেহিদী ও ওই ছাত্রী একই ঘরে ভাইবোন হিসেবে থাকতো। পাশের অন্য ঘরে থাকত শাহ আলম ও স্ত্রী নাসিমা বেগম। 

ভুক্তভোগী আয়শা আক্তার জানান, ইংরেজি বিষয়ে পারদর্শী হওয়ায় বড় ভাই মেহিদীকে মাঝে মাঝে ইংরেজি বিষয়ে পড়াতাম। এরপর থেকে লম্পট মেহিদী হাসান আমার ওপর কু-নজর দেন। পড়ার ছলে মেহিদী বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন চালাতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো। প্রস্তাবে রাজি না হলে হত্যার হুমকি দিতো, আর বলতো বাবাকে হত্যা করে তোর মায়ের ওপর দোষ চাপাবো, হত্যার দায়ে তোর মায়ের ফাঁসি হবে। বাবাকে হত্যার ভয়ে কাউকে এ ঘটনা জানায়নি, সব নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেছে। এক পর্যায়ে এক রাতে ফাঁকা ঘরে আয়শা আক্তারকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে লাগাতার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করে মেহিদী হাসান। একাধিকবার ধর্ষণের পর এক পর্যায়ে আয়শা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। অন্তঃসত্ত্বার খবর পেয়ে মেহিদী হাসান তাকে সন্তান নষ্ট হওয়ার জন্য বিভিন্ন ওষুধ সেবন করান। পরে এ ঘটনা আয়শা আক্তার তার মা নাসিমা বেগমকে জানালে মেহেদী হাসান সৎ মা নাসিমা বেগমের পা ধরে ভুল হয়ে গেছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আর তার বাবাকে না বলার জন্য অনুরোধ করেন। চাকরি হলে আয়শাকে বিয়ে করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। 

ওষুধ সেবনে বাচ্চা নষ্ট হয়েছে এমন ধারণা ছিলো মেহিদী হাসানের। কিন্তু এর কয়েকমাস পর গত বছরের ১৮সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার প্রসব বেদনা ওঠে। ওই রাতে আয়শা একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। সস্তান জন্মের পর মেহিদী হাসান বিপাকে পড়েন। পরে ওই রাতেই আয়শার কোল থেকে বাচ্চাটা ছিনিয়ে নিয়ে যায় মেহিদী হাসান। পরে তাকে হত্যা করে বলে জানান আয়শা আক্তার।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, পরে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আবারো শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে মেহিদী হাসান। বর্তমানে ওই ছাত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে পালিয়ে যান লম্পট মেহিদী হাসান। পরে মেহিদী হাসান বিভিন্ন ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এ ব্যাপারে মুখ খুললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহিদী হাসানের বড় বোন লিপি আক্তার বলেন, কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কিভাবে? সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন।  

এ ব্যাপারে মেহিদী হাসানের বাবা শাহ আলম সরকার বলেন, এমন কুলাঙ্গার ছেলে যেন কারো ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব। 

এ ব্যাপারে রাজামেহার ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে যে কোনো সহায়তা করা হবে। 

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগীকে যেকোন আইনি সহায়তা দেব। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here