বার্সার নতুন কোচ: কে এই সেতিয়েন?

0
190

আর্নেস্তো ভালভার্দে অনিবার্যভাবে বরখাস্ত হওয়ায় তার জায়গায় নতুন কোচ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন রিয়াল বেতিসের সাবেক কোচ কুইক সেতিয়েন। 

সোমবার রাতে অফিসিয়ালি দুই কোচের তথ্য নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ভালভার্দেকে বিদায় বলে বার্সার টুইট, ফার্স্ট টিমের কোচ হিসেবে এফসি বার্সেলোনা ও আর্নেস্তো ভালভার্দের মধ্যকার চুক্তি শেষ হয়েছে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ আর্নেস্তো। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।

গত কয়েকমাস ধরে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে গরম উনুনের ওপর বসে ছিলেন ভালভাের্দে। তার চূড়ান্ত রূপ পায় সুপারকাপে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হার। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হলো ৫৫ বছর বয়সী ভালভার্দেকে। 

ভালভার্দের উত্তরসূরী হিসেবে দলের দুই সাবেক জাভি ও রোনাল্ড কোম্যানকে ডাগআউটে চাইছিলো বার্সেলোনা। কিন্তু তাদের কাউকেই পায়নি তারা। জাভি জানিয়ে দেন, গ্রীষ্মের আগে তিনি যোগ দিতে পারবেন না ন্যু ক্যাম্পে। আপাতত তিনি আল সাদ নিয়েই থাকতে চান। আর সে কারণে স্প্যানিয়ার্ড সেতিয়েনকেই চূড়ান্তভাবে বেছে নিলো কাতালানরা। ২০২২ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছে তার সঙ্গে। যার ফলে দ্রুততম সময়ে জাভির বার্সার আসার আর কোনো সম্ভাবনা রইলো না। 

ক্লাব ফুটবলে খুব একটা পরিচিত নন কুইক সেতিয়েন। প্রথম সারির কোনো ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও নেই তার। কিন্তু তারপরও তাকেই বেছেই নিলো লা লিগার গত দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। চলুন দেখে নেয়া যাক সেতিয়েনের আদ্যোপান্ত:

কে এই সেতিয়েন?

রেসিং সান্তান্দারের একজন প্রতিভাবান মিডফিল্ডার ছিলেন সেতিয়েন। সেখানে ৮ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ২০৫ ম্যাচ, গোল করেছেন ৪৩টি। লেভান্তের হয়ে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি খেলেছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও লোগ্রন্সের হয়ে। 

৬১ বছর বয়সী সেতিয়েন ২০০০ সালে সান্তান্দারের হয়েই কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর পলি এজিদো ও লোগ্রন্সের হয়ে কোচের দায়িত্ব পালনের পর দায়িত্ব নেন গিনি জাতীয় দলের। তিনি লুগোর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৫ বছর। এসময় দলটিকে সেগুন্ডা বি লিগে উত্তীর্ণ করেন সেতিয়েন। 

এরপর তিনি দায়িত্ব নেন লা পালমাসের। প্রথম মৌসুমেই দলটিকে অবনমন থেকে রক্ষা করে ১১তম স্থানে ওঠান। দলটির হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে ইউরোপীয় কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করেন তিনি। 

২০১৭ সালে রিয়াল বেতিসের স্থায়ী ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হন সেতিয়েন। প্রথম মৌসুমেই রিয়াল বেতিসকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা উত্তীর্ণ করেন তিনি। ডার্বিতে সেভিয়াকে ৫-৩ গোলে হারায় তার শিষ্যরা। পয়েন্ট টেবিলে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে বেতিস। ফ্যাবিয়ান রুইজ ও জুনিয়র ফিরপোর মতো ফুটবলাররা উঠে এসেছে সেতিয়েনের হাত ধরেই। যারা এখন যথাক্রমে নাপোলি ও বার্সেলোনায় খেলছেন। 

দ্বিতীয় মৌসুমে বেতিসকে কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনালে তোলেন সেতিয়েন। যদিও সেখানে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে যায় তারা। ইউরোপা লিগে তার দল রেনেসের কাছে হেরে যায়। এরপর লা লিগায়ও ছন্দ হারায় তার দল। 

দলের ধীরে ধীরে অবনতির কারণে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই চাকরি ছাড়তে হয় তার। 

রঙিন একটি ফুটবল ক্যারিয়ারের মালিক সেতিয়েন। তার দর্শন বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা। অনেক সময় তিনি ৪-২-৩-১ ফরম্যাশনে খেলিয়ে থাকেন। বল দখলে রেখে আক্রমণে বেশি মনোযোগ দেন সেতিয়েন। তার কোচিং দর্শন বার্সেলোনা কিংবদন্তী ইয়োহান ক্রুইফের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে অনেকটাই মিলে যায়। ক্রুইফের একজন গুণগ্রাহী এই সেতিয়েন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here