প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা পালন করতে জনগণ সচেষ্ট: তথ্যমন্ত্রী

0
103

‘জনগণের জন্য দেওয়া  প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা পালন করতে জনগণ সচেষ্ট।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ একথা বলেন।

‘সরকার জনগণকে ঘরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে’— মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ কার্যত ঘরেই অবস্থান করছে। জনগণের জন্য দেওয়া  প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনাও পালন করতে জনগণ সচেষ্ট। কিন্তু সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে ঘরে অবস্থান করছে, আমরা দেখতে পেলাম, খালেদা জিয়া যেদিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পেলেন, তারা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সামনে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করলেন। বাড়ির সামনে জমায়েত করলেন। যেখানে ২৬ মার্চের জাতীয় সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাতিল করা হয়েছে, অথচ তারা হাজার হাজার মানুষ জমায়েত করেন। তারাই আবার দোষারোপের রাজনীতি করেন।’

মন্ত্রী বলেন, “বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য রেখেছেন, এতে মনে হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, সেটা না পড়ে, না বুঝে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অর্থনৈতিক পাকেজ ঘোষণার পর, তারা সরকারকে ধন্যবাধ জানাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ধন্যবাদ জানানোর সংস্কৃতিটাই লালন করে না। সে কারণে বিএনপি এবারও চিরাচরিত গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে নি।”

এই প্যাকেজ ঘোষণার আগে থেকেই সরকার দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এখানে দরিদ্র মানুষের কোন কথা নেই, এখানে দিনে আনে দিনে খায় এমন মানুষের কোন কথা নেই- এ ধরণের কান্ডজ্ঞানহীন কথা বলেছেন। এই সংবাদ সম্মেলন করার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জানা উচিৎ ছিল, বিএনপির মত একটি বড় দলের মহাসচিবের মত দায়িত্বে থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে বক্তব্য রাখা।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারের চলমান ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডের বাইরেও দরিদ্র মানুষ যাতে বিনামূল্যে খাদ্য পায়, সেজন্যই সরকার ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ৪৮ হাজার একশত ১৭ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৬ কেটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ৬ শত ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।এর বাইরেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৪ টাকা দামের ওএমএসের চাল ১০ টাকা কেজি দরে ঢাকাসহ সারাদেশে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র মানুষ এটা কিনতে পারে। এবং এতে মানুষ যে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে, স্বস্তিপ্রকাশ করেছে, তা বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকেই জানা গেছে। এছাড়াও সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে গত সাত মাস ধরে প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা দরের চাল বিতরণ করছে, যার ফলে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই সহায়তা পাচ্ছে, জানান ড. হাছান।

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) পড়ে, জেনে, শুনে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু অন্ধের মতো নয়। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগ সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এখন একে অপরকে দোষারোপের, বাদানুবাদের সময় নয়। একে অপরের হাত ধরে মানুষের পাশে দাড়ানোর সময়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here