গরিবের গলায় কিস্তির ফাঁস

0
96

আনোয়ার হোসেন লিখন :
করোনাভাইরাসের কারণে জীবনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে অনেকেই।
এ অবস্থায় তাদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি। এই দুঃসময়েও এনজিওগুলো কিস্তির টাকার জন্য চাপাচাপি করছে।
এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতাদের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ সরকার এই সঙ্কটকালে এনজিওগুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টের পর্যন্ত সব ধরনের কিস্তি আদায় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলেছে।
সম্প্রতি গ্রামীন ব্যাংকের অফিসে গিয়ে গ্রাহকদের কিস্তি পরিশোধের জন্য মুঠোফোনে কল দিয়ে চাপ দেন সংশ্লিষ্ট কিস্তি গ্রহীতা গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়োজিত অফিসার।
বাসায় চলে যাচ্ছেন অফিসের ম্যানেজার। যশোর উপশহর ব্রাঞ্চ এর ম্যানেজার আবুল কালাম সরদার| তার অধিনের অফিসারগণ গ্রাহকদের কিস্তির জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
মানছেননা সরকারের কোন আইন। তার অধিনস্তনদের দিয়ে ফোনে বাসায় গিয়ে কিস্তি আদায়ে নিয়মিত প্রেসার দিচ্ছেন কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য।
যদিও সার্কুলার এ ঋণের বিপরীতে ০১ জানুয়ারী ২০২০ হওত ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত কোন সুদ বা মুনাফা আরোপ করা যাবেনা বলা হয়েছে তা সত্তেও ম্যানেজার নিজের মনগড়া চক্রবৃদ্বিহারে মুনাফা আদায় করার চেষ্ঠা করছেন। বাসায় গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন কিস্তি পরিশোধের জন্য।
দেশের অন্যসব এনজিওগুলো মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)র অধিনে থাকলে গ্রামীন ব্যাংক নিয়ন্ত্রন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডিএফআইএম সার্কুলার নং ১ এ প্রথমে নির্দেশনা ছিল যে, ০১ জানুয়ারী ২০ তারিখে বিদ্যমান ঋণ /লিজ/অগ্রিমের শ্রেনীমান ৩০ শে জুন পর্যন্ত বলবত থাকবে।
১৯৯৩ এর ১৮ (ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি সার্কুলার নং ১৩ এ ২৪ শে মার্চ ২০২০ তারিখে জারিকৃত ডিএফআইএম সার্কুলার নং ৫ এ ডিএফআইএম সার্কুলার নং ১ এর কার্যকারিতা র মেয়াদ ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

বৃন্তি নামে একজন ঋণ গ্রহিতা জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের কিস্তি উত্তোলনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি ফোন করে তাকে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকেন। ম্যানেজারের সাথে দেখা করতে বলেন।
তিনি বলেন, স্বামীর ব্যবসার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। অনেকগুলো কিস্তি পরিশোধ করেছি। সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায় ধস নামে। তারপরও কিস্তি দেয়ার চেষ্ঠা করেছি এখন আর সম্ভব হচ্ছেনা।
এছাড়া জুলিয়া হোসেনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ফোন দিয়ে আমাকে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। এই মুহূর্তে কিস্তি পরিশোধ করার মতো আর্থিক অবস্থা নেই। তাই তাদেরকে বলেছি সরকার কিস্তি পরিশোধের জন্য স্বাভাবিক সময় ঘোষণা করলে এবং আমার স্বামীর ব্যবসা স্বাভাবিক হলে তখন থেকে কিস্তি দিতে পারবো। বর্তমানে কিস্তি দেয়া সম্ভব নয়।
জানা গেছে, এলাকার বহু অসহায় নারী-পুরুষ কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়েও বেড়াচ্ছেন। সরকার লকডাউন তুলে নিয়েছে এমন খবরের পরপরই কর্মহীন ঘরবন্দী মানুষের মাথার ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখির পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে কিছু দিন কিস্তি আদায় বন্ধ রাখলেও সরকারি ছুটি উঠিয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনজিওগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিওকর্মী বলেন, অফিস খেলার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যানেজার কিস্তির টাকা নেয়ার জন্য বলেছেন। এ কারণে আমরা কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য এনজিওর সদস্যদের চাপ দিতে বাধ্য হচ্ছি।
গ্রামীন ব্যাংকের উপশহর শাখার ম্যানেজারের সাথে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিনে আছি । বাংলাদেশ ব্যাংক কিস্তি আদায়ের জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছি তাই আমরা কিস্তি আদায় করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here