খাগড়াছড়িতে জমজমাট শিলং-তীর নামে জুয়ার আসর

0
47

আনোয়ার হোসেন ঃ

খাগড়াছড়ি পার্বত্যজেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে বসছে শিলং তীর নামে ডিজিটাল জুয়া খেলার জমজমাট আসর। দীর্ঘদিন থেকে জেলার ৯টি উপজেলার জনবহুল পাহাড়ী এলাকায় স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় এসব জুয়ার আসর মহামারির রুপ ধারণ করেছে। উপজেলা গুলো হচ্ছে রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, মহালছড়ি, দিঘীনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও খাগড়াছড়ি। জুয়ার ফলে লোকজন টাকা-কড়ি হারিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও রাহাজানিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উদ্ভাবিত নাম্বার টোকেনের এই খেলায় ৫টাকায় ৪শত টাকা, ১০ টাকায় ৮শত টাকা পাবার আশায় বাজারে আসা যুবক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন ডিজিটাল এ জুয়ায় আসক্ত হচ্ছেন।
এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা এজেন্ট পরিচালনা করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব এজেন্ট পয়েন্টে বসে জুয়ার আসর। এর মধ্যেই আরেকটি চক্র অধিক মুনাফার লোভে নিজেরাই ভারতীয় শিলংয়ের আদলে গড়ে তুলেছে নতুন আরেকটি শিলং। এই ডিজিটাল জুয়া খেলে পেশাদার জুয়াড়িরাও হচ্ছেন প্রতারিত ও নিঃস্ব।
জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে আশপাশের এলাকায় চুরি-ডাকাতির প্রবণতা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। নাম্বার টোকেনের এই খেলায় ৫টাকায় ৪শত, ১০ টাকায় ৮শত টাকা পাবার লোভ সংবরণ করতে না পেরে সাধারণ লোকজন এর প্রতি আসক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে এ নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সমাজের অবক্ষয়রোধে ডিজিটাল এ জুয়া খেলা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, শিলংয়ের তীর বন্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছেন তারা। তবে এটি একটি সামাজিক সমস্যাও। জনসাধারণকেও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য প্রশাসনকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here